বাংলাদেশের অর্থনীতি কোন পথে হাটছে?

মোঃ মানসুর আলম সিকদার: যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নীতি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে কাঁপন তৈরি করেছে। ব্যাংকে ডলার–সংকট, বিপাকে ব্যবসায়ীরা।আগামী ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটটি হচ্ছে গরিব মারা বাজেট, যেমন TIN না থাকলে আপনি ৩৮টি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। সুযোগ থাকলে ৩৮টি সুবিধা কি কি একটু পড়বেন, তাহলে বুজবেন। অর্থাৎ আপনার ইনকাম না থাকলেও আপনি ট্যাক্সের আওতায় নিজের অজান্তে পড়তে পারেন। তা ছাড়া ঘুষ, সমগ্র-সেক্টরে দুর্নিতি, মূদ্রা পাচার, গুম, খুন, অবর্ননিয় নির্যাতন, বিচার বিভাগের প্রতি অবিশ্বাস, সাম্য, মানবিক-মর্যাদা, বিরেধীমতের প্রতি অবিচার, বিভিন্নভাবে বিরোধী নেতাকর্মির গঙ্গুত্ত্ব বরণ, বিরোধিদের বিরুদ্ধে লক্ষ লক্ষ মামলা, মিথ্যা-মামলা, গায়েবী-মামলা, ক্রোচফায়রের ভয় দেখিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীদের মোটা অংকের ঘুষ দিতে বাধ্য করা, ইত্যাদি কারণে আওয়ামিলিগের জনসমার্থন এখন তলানিতে ঠেকেছে। তা ছাড়াও ২০১৪ সালে বিনা ভোটের সরকার গঠিত, ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাত্রে হয়েছিল, সুষ্ঠ নির্বাচণে পশ্চিমাদের পরিষ্কার বার্তা, অর্থাৎ সব মিলিয়ে আওয়ামিলিগ ক্ষমতায় থাকার কোন সম্ভাবনা অথবা কোন সুযোগ আমরা দেখছি না। এখানে—-; যদি, তবে, কিন্তু, সুতরাং, ইনিয়েবিনিয়ে কথা, কোন যুক্তি, দাড়ি, কমা, সেমিক্লোন নাই। হা!! শুধু ফুল ষ্টপ দেখতে পাচ্ছি অর্থাৎ যত চেষ্টাই করুক না কেন, অবৈধভাবে, বিনা ভোটে, তারা ক্ষমতায় থাকছে না, এটা পরিষ্কার। আমরা জানিনা সামনে দেশের জন্য কি অপেক্ষা করছে?

এখন আওমিলিগের নেতারা যে বিবৃতি দিচ্ছে তা হল মাঠ পর্যায়ের নেতাদের মনোবল চাঙ্গা রাখার জন্য শক্ত শক্ত কথা বলছে। তবে যাদের গভির বুদ্ধি আছে তারা বুজতে পারছে যে, বাংলাদের নির্বাচন সঠিকভাবে এবং যথাযথভাবে সম্পন্ন হবে, এর কোন বিকল্প নাই। ফেয়ার নির্বাচন হলে আওয়ামিলিগের নির্বাচনি মাঠে কি অবস্থা হতে পারে সেটা বোধহয় একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধিও জানে। এটার জন্য খুব বেশি জ্ঞানের প্রয়োজন নাই। ধন্যবাদ।

১) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এর হিসাব মতে খেলাপি ঋণ হবে ৩ লাখ কোটি টাকারও বেশিঃ গত মার্চ শেষে দেশে ব্যাংক খাতে ঋণ ছিল ১৫ লাখ কোটি টাকা। ওই সময়ে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয় ১ লাখ ৩১ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। অর্থাৎ ব্যাংকঋণের ৮ দশমিক ৮০ শতাংশই এখন খেলাপি। ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ২০ হাজার ৬৫৬ কোটি টাকা বা ৮ দশমিক ১৬ শতাংশ। বাস্তবে অনেক বেশি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। তাদের হিসাবে খেলাপি ঋণ হবে ৩ লাখ কোটি টাকারও বেশি। অর্থাৎ ২৮. ৪ বিলিয়ন ডলার। এটা কি ভাবা যায়?

১.১) প্রকৃত খেলাপি ঋণ ৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছেঃ অনেক আগেই খেলাপি ঋণের তথ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, ১ লাখ ৩৪ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ। আসলে প্রকৃত খেলাপি ঋণ ৪ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। কারণ খেলাপি ঋণকে কার্পেটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়েছে। সুত্রঃ যুগান্তর। অর্থাৎ ৩৭.৩৮ বিলিয়ন ডলার।    

১.২) বাংলাদেশ থেকে মাদকের কারণে প্রতিবছর পাচার হয়ে যায় ৪৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারঃ বাংলাদেশ থেকে মাদকের কারণে প্রতিবছর পাচার হয়ে যায় ৪৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় ৫ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। আর মাদক কেনাবেচা করে অর্থ পাচারের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে পঞ্চম। এশিয়ার দেশগুলো বিবেচনায় নিলে মাদকের মাধ্যমে টাকা পাচারের ঘটনায় বাংলাদেশ একেবারে শীর্ষে রয়েছে। সূত্রঃ   প্রথম আলো। 

প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনতে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ কার্যকর করতেগুরুত্বপূর্ণ প্রথম উদ্যোগনিয়েছে বাংলাদেশ ভারতসূত্র: দি ডেইলি ষ্টার।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪১ হাজার ৭৩২ কোটি টাকা, যা বিদায়ী অর্থবছরের তুলনায় ১ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা বেশি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা খাতে ৩৯ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

১.৩) ফুটপাত থেকে চাঁদাবাজির দুই হাজার কোটি, পরিবহন খাতে ৪ হাজার কোটি, অটো রিক্সা, অবৈধ CNG এবং টেম্পু বছরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। প্রশ্ন হচ্ছে চাঁদাবাজির এত টাকা কোথায় যায়ঃ ঢাকার ফুটপাত থেকে চাঁদাবাজির দুই হাজার কোটি।  প্রথম আলো -২৩, পরিবহন খাতে মাসে ৩০০ কোটি টাকা চাঁদাবাজি, বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা, বনিকবার্তা – ২১, অটো রিক্সা, অবৈধ CNG এবং টেম্পু বছরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। এত টাকা কোথায় যায়?

১.৪) সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত খাতঃ এখন ঘুষ লেনদেন হয় ডলারে, দুদক কী করে : হাইকোর্ট।দৈনিক কালের কন্ঠ। সর্বাধিক দুর্নীতিগ্রস্ত খাত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা: টিআইবি। দৈনিক ডেইলি ষ্টার। ভূমি রেজিষ্ট্রেশন অফিস, তহসিল অফিস তথা এসি ল্যান্ড অফিস, ভূমি হুকুম দখল অফিস, কাস্টম এন্ড এক্সাইজ অফিস, বন বিভাগ, গনপূর্ত/সড়ক ও জনপথ এর টেন্ডার শাখা, হিসাব নিয়ন্ত্রণ বিভাগ ইত্যাদি।

১.৫) ১১৬ আলেম ও ১০০০ মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ২ হাজার ২১৫ পাতার অভিযোগ দুদকেঃ ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি ‘গণকমিশন’ দেশের ১১৬ আলেম ও ১০০০ মাদ্রাসার বিরুদ্ধে ২ হাজার ২১৫ পাতার যে শ্বেতপত্র কমিশনে জমা দিয়েছে, সেটি পরীক্ষার জন্য একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি করা হয়েছে বলে জানায় দুদক। অভিযোগটি পাওয়ার পর প্রাথমিকভাবে তা পুংখানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হয়। তবে দুদক কমিটিকে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি বা কমিশন থেকে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি।

১.৬) ৮ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা সুদ মওকুফ: রোববার জুন ১১, ২০২৩, দি ডেইলি ষ্টারঃ অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আজ রোববার সংসদে বলেছেন, ”৬টি রাষ্ট্রায়ত্ত ও ৩টি বিশেষায়িত ব্যাংক ২০২২ সালে ৪ হাজার ৬২১ জন ঋণগ্রহীতার ৮ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা সুদ মওকুফ করেছে”।                    

১.৭) ২০২২ সালে ১ হাজার ৬২০ কোটি ৮৩ কোটি টাকার সুদ মওকুফ কার্যকর হয়েছিলঃ ব্যাংকগুলোর পরিচালনা পর্ষদ ২০২২ সালে ৪ হাজার ৬২১ জন গ্রাহকের অনুকূলে ৮ হাজার ৪০৪ কোটি ৫২ লাখ টাকার সুদ মওকুফ প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। ২০২২ সালে ব্যাংকগুলোর ১ হাজার ৬২০ কোটি ৮৩ কোটি টাকার সুদ মওকুফ সুবিধা কার্যকর হয়েছিল।’     

১.৮) ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেলে বিমা থেকে আমানতকারীদের ২ লাখ টাকা দেওয়া হবেঃ কোনো ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেলে বিমা থেকে আমানতকারীদের ২ লাখ টাকা দেওয়ার বিধান রেখে ব্যাংক আমানত বিমা আইনের সংশোধনী বিল জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। এ ধরনের বিধান কাদের সার্থে করা হচ্ছে? এ আইন কেন করা হচ্ছে? এ আইনে কি বার্তা দিচ্ছে? আমরা এর পরিষ্কার ব্যাখ্যা দাবি করছি।

২) বিদ্যুৎ উৎপাদনে এবার সীমাহীন ঋণের সুযোগঃ ৩মার্চ, ২০২৩ইং “ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক তার মূলধনের ২৫ শতাংশের বেশি ঋণ কোনো প্রতিষ্ঠানকে দিতে পারে না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এ সীমা চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তুলে নেওয়া হয়েছে”। অর্থাৎ তারা সীমাহিন ঋন নিতে পারবে। অন্যদিকে তাদের ব্যপারে কোন ধরনের মামলা করতে পারবে না মর্মে ইনডেমিনিটি দেয়া হয়েছে। কিন্তু কেন? ভাই।

৩) প্রায় তিন বছরে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ প্রতিষ্ঠানে মোট ভাড়া দেয়া হয়েছে ৫৩ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকাঃ এর আগে ২০২০-২১ অর্থ বছরে ১৮ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা এবং ২০২১-২২ অর্থ বছরে ১৮ হাজার ১২৩ কোটি টাকা। প্রায় তিন বছরে মোট ভাড়া দেয়া হয়েছে ৫৩ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা। এই ক্যাপাসিটি চার্জ দেয়া হয়  ভাড়া ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র- রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল, আমাদানি করা বিদ্যুৎ এবং ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারদের(আইপিপি)। প্রথম আলো। অর্থাৎ তিন বছরে ৫.০৫ বিলিয়ন ডলার শুধু কপাসিটি বাবদ ভাড়া দিতে হয়। কিন কেন?ভাই।

৪) ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাবে ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৮১ কোটি টাকাঃ ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎ কোম্পানি যেখানে বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছে, সেখানে এর সঙ্গে বাড়তি যোগ হয়েছে ভারতের আদানি গ্রুপ। তারা ক্যাপাসিটি চার্জের নামে বাংলাদেশ থেকে নিয়ে যাবে এক লাখ ২৬ হাজার ৫৮১ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার শুধু কপাসিটি বাবদ ভাড়া দিতে হয়। কিন্তু কেন?ভাই। ভারতের আদানি গ্রুপ এর টাকা ডলারে পরিশোধ করতে হবে।

৫) ২৪ সালে ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৩০ বিলিয়ন ডলারঃ ২০২৩ সাল শেষে বাংলাদেশে বিদেশী  ঋণের পরিমাণ  ১১৫  বিলিয়ন ডলার ছাড়াবে। আর ২০২৪ সাল শেষে বিদেশী ঋণের  পরিমাণ দাঁড়াবে  ১৩০ বিলিয়ন ডলারে। কিন্তু দেখাগেছে ১০৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশি ঋণ রেখে গেছেন হাসিনা। অথচ ২০০৮-০৯ সাল শেষে সরকারের বিদেশি ঋণ ছিল ২১.১৯ বিলিয়ন ডলার। গত ১৫ বছরে অনেক বিদেশি ঋণও নেওয়া হয়েছে। তবে এসব ঋণের বেশির ভাগই নেওয়া হয়েছে দর-কষাকষি ও বাছবিচারহীনভাবে; যা সরকারের দায়দেনা পরিস্থিতিতে চাপ বাড়িয়েছে।

৬) মোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ১০৭ টাকা হিসাবে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ কোটি টাকা অথবা ১২১.৫০ বিলিয়ন ডলারঃ আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ঝুঁকিমুক্ত থাকলেও সর্বশেষ হিসাবে দেশে মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ কোটি টাকা। এটি জাতীয় বাজেটের প্রায় প্রায় দ্বিগুণ। এই ঋণের বিপরীতে গেল অর্থবছরে ৭৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে সুদ পরিশোধে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিদেশী উৎস  থেকে দেশের মোট ঋণের পরিমাণ  ছিল ৪৫  দশমিক ৮১  বিলিয়ন বা ৪  হাজার ৫৮১  কোটি ডলার।  সুত্রঃ যুগান্তর।

৭) বিদেশী ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ঠেকবে ২৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারঃ ২০২২ সাল শেষে বিদেশী ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ঠেকবে ২৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে। এর মধ্যে  দেশের বেসরকারি  খাতকে প্রায়  ১৮  বিলিয়ন ডলার  পরিশোধ করতে হবে।  বাকি ৫ বিলিয়ন  ডলার  পরিশোধ  করবে সরকার। 

৮) বাংলাদেশের মোট সম্পদের পরিমাণ ২.০২ ট্রিলিয়ন ডলারঃ বিশ্বব্যাংকের মতে, বাংলাদেশে  বর্তমানে মাথাপিছু সম্পদের পরিমাণ ১২ হাজার ৭১৪ মার্কিন ডলার। প্রতি ডলার ৮৫ টাকা দরে হিসাব করলে দেশীয় মুদ্রায় তা দাঁড়ায় ১০ লাখ ৮০ হাজার ৭৯০ টাকা, ১০৭ টাকা হিসাবে অথবা ১৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। আর দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি ধরা হলে মোট সম্পদের পরিমাণ হয় ১ কোটি ৭২ লাখ ৯২ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা। কানাডাভিত্তিক অনলাইন প্রকাশনাভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টঅনুসারে, বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৫তম বৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে

৯) বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থান ৩৫তমঃ বৈশ্বিক জিডিপির তালিকা অনুযায়ী বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থান ৩৫তম। বাংলাদেশের জিডিপির আকার এ সময় ছিল ৪৬০ বিলিয়ন ডলার বা ৪৬ হাজার কোটি ডলার। বাংলাদেশের ঠিক আগেই রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর ও অস্ট্রিয়ার মতো দেশ। ড. আতিউর বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতি হবে ২৮তম ।

১০) মিলিয়ন, বিলিয়িন এবং ট্রিলিয়নের হিসাবঃ মিলিয়ন মানে একের পিঠে ৬(ছয়টা) শূন্য বা দশ লক্ষ। বিলিয়ন মানে একের পিঠে ৯ (ন’টা) শূন্য বা ১০০ কোটি। এবং ট্রিলিয়ন মানে একের পিঠে ১২ (বারটা) শূন্য।

১১) ১৩০ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছেঃ বিগত ১৬ বছরে প্রতি ডলার ডলার রেট ৮৪.৫ টাকা হারে ১১ লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়েছে বাংলাদেশ থেকে অর্থাৎ গড়ে প্রায় ৭০ হাজার টাকা পাচার হয়েছে বাংলাদেশ থেকে। প্রতি ডলার ৮৪.৫ হারে ১৩০ মিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে।

১২) মাথাপিছু পাচার হয়েছে প্রায় ৮৭ হাজার টাকাঃ প্রতি ডলার ১০৭ টাকা হিসাব করলে প্রায় ১৪ লক্ষ কোটি টাকা পাচার করেছে। অর্থাৎ মাথাপিছু পাচার হয়েছে প্রায় ৮৭ হাজার টাকা।

১৩) ২০১২ অর্থ বছরে মাথাপিছু ঋন ১২ হাজার ৭ শত টাকাঃ ২৫ বছর আগের ১৯৫-৯৬ সালে মাথাপিছু ঋন ছিল ৮ হাজার টাকা, ২০১২ অর্থ বছরে মাথাপিছু ঋন ১২ হাজার ৭ শত টাকা। ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে ঋন ৮৫ হাজার টাকা, ২০২১-২০২২ অর্থ বছরে মাথাপিছু ঋন ৯৮ হাজার টাকা সেই হিসাবে ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে মাথাপিছু ঋন দাড়াবে ১ লক্ষ ১১ হাজার টাকার উপরে।

১৩.১) আভ্যন্তরিন ঋন এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬০১ কোটি টাকাঃ যদিও আগের অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৩০ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০২১-২২ অর্থবছর শেষে ৩০ জুন সরকারের ব্যাংক ঋণের স্থিতি ছিল ২ লাখ ৭০ হাজার ১৮৫ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। বর্তমানে এর পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৬০১ কোটি টাকা। অর্থাৎ গত ১১ মাসে নিট বেড়েছে ৯২ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা।

১৩.২) বৈদেশিক ঋন এবং আভ্যন্তরিন ঋন সব মিলিয়ে 155.80 বিলিয়ন মার্কিন ডলারঃ ডলার হিসাবে দেখালে ১০৭ টাকায় কনভার্ড করলে দ্বাড়ায় 3,429.91 হাজার মার্কিন ডলার অথবা 34.30 বিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৈদেশিক ঋন এবং আভ্যন্তরীন ঋন = 121.50 + 34.30) = 155.80 বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

১৩.৩) মাথাপিছু ঋন দ্বাড়ায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকাঃ টাকায় হিসাব করলে ১৭ লক্ষ কোটি টাকা। সেই হিসাব করলে মাথাপিছু ঋন দ্বাড়ায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা।

১৩.৪) ২০২১-২২ অর্থবছরে  ৮২.৪৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশঃ ২০২১-২২ আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৮২ দশমিক ৪৯ বিলিয়ন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে বিভিন্ন দেশ থেকে ৬ হাজার ৬৮ কোটি ১০ লাখ (৬০.৬৮ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য আমদানি করেছে বাংলাদেশ। ২০২৩ সালে ৭০ থেকে ৭৫ বিলিয়ন ডলার হতে পারে আমদানি ব্যয়।

১৩.৫) গত ২০২১-২২ অর্থবছর রপ্তানি থেকে আয় করে ৪৯ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলারঃ অর্থবছর শেষে বাংলাদেশ রপ্তানি থেকে আয় করে ৪৯ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার, প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ২০২০-২১  রপ্তানি আয় এসেছে ৩৮ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার। বাণিজ্যে প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি নিয়ে ২০২০-২১ অর্থবছর শেষ হয়েছে। ২০২৩ সালে  রফতানি আয় হতে পারে ৫২ থেকে ৫৫ বিলিয়ন ডলার।

১৩.৬) অবৈধভাবে ক্ষমতায় গিয়ে লুটপাট শুরুহয়েছেঃ ২৫ বছর পূর্বে ১৯৫-৯৬ সালে মাথাপিছু ঋন ছিল ৮ হাজার টাকা, ২০১২ অর্থ বছরে মাথাপিছু ঋন ছিল ১২ হাজার ৭ শত টাকা। বর্তমানে সেই হিসাব করলে দেখাযায় মাথাপিছু ঋন দ্বাড়ায় ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। কি বুজলেন? অবৈধভাবে ক্ষমতায় গিয়ে তারা লুটপাট করে দেশটিকে তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিনত করেছে। সাধারন মানুষ এই হিসাবগুলো জানে না অথবা জানার কথাও না।

১৪) পাকিস্তানে মাথাপিছু ঋন ৬৮ হাজার টাকা অন্যদিকে মাথাপিছু ঋণের স্থিতি বাংলাদেশে দাঁড়াবে ১ লাখ ১১ হাজার টাকাঃ আজ যে শিশুটি জন্ম নেবে, তার মাথায়ও সমপরিমাণ ঋণের দায় চাপবে। গত এক বছরে মাথাপিছু ঋণ বেড়েছে ১০ হাজার ৮৩০ টাকা। আগামী এক বছরে এটা আরও প্রায় ১৫ হাজার টাকা বাড়বে। ফলে ওই সময়ে মাথাপিছু ঋণের স্থিতি দাঁড়াবে ১ লাখ ১১ হাজার টাকা। সূত্রঃ যুগান্তর।

১৫) ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৩.৮৩ বিলিয়ন ডলারঃ এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাবে রিজার্ভ ২ হাজার ৯৮৩ কোটি ডলার হলেও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবে রিজার্ভের ৬০০ কোটি ডলার ব্যবহারযোগ্য নয়। আইএমএফের শর্ত মানলে দেশে এখন ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৩৮৩ কোটি ডলার।

১৬) পায়রার ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হতে যাচ্ছঃ পর্যাপ্ত কয়লার মজুত না থাকায় আগামী সপ্তাহে পায়রার ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হতে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গত ২৫ মে একই কারণে বন্ধ হয়ে যায় ৬৬০ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট। ফলে দেশব্যাপী চলমান লোডশেডিং আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

১৭) ২০২০-২১ অর্থ বছর অনুযায়ী মাথাপিছু খরচ ২৭,৩১২ টাকাঃ  বাংলাদেশে মাথাপিছু খরচ ২৭,৩১২ টাকা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে দেশের মাথাপিছু আয় এখন ২ হাজার ৫৫৪ ডলার অর্থাৎ প্রায় ৩ লক্ষ টাকা, মাথা পিচু চুরি এবং লুটপাট ১ লক্ষ টাকা। বৈশম্য বেড়েছে আকাশ এবং পাতাল।

১৮) পাচারের টাকা ফেরাতে ১০ দেশের সঙ্গে চুক্তি চায়। বিএফআইইউ, কিন্তু দৃশ্যত কোন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে নাঃ যে ১০ দেশের সঙ্গে চুক্তি চায় বিএফআইইউ, সেগুলো হচ্ছে- যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, হংকং-চায়না। কিন্তু কোন অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।

কোন কোন দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে- তা জানাতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিএফআইইউকে অনুরোধ করে। পরে বিএফআইইউ এই দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তির যৌক্তিকতা আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে জানায়।

পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা সম্পর্কিত মামলার তথ্য-প্রমাণ বিদেশি রাষ্ট্র থেকে যথাসময়ে না পাওয়ার প্রেক্ষাপটে এই অনুরোধ এসেছিল বলেও হলফনামা প্রতিবেদনে উল্লেখ করে বিএফআইইউ।

১৮.১) বিলিয়ন বিলিয় ডলার ফেরত আসতঃ যদি সরকার যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, হংকং এবং চায়না থেকে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে চুক্তিবদ্ধ হতে রাজি হত তবে বিলিয়ন বিলিয় ডলার ফেরত আসতে বাধ্য হত।

১৮.২) সাক্ষরকৃত সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ১২১ টি দেশ জমাকৃত অর্থের সব তথ্য সুইস ব্যাংক থেকে পায় কিন্তু ১২১ দেশ থাকলে সাক্ষর না করার কারণে বাংলাদেশ সেই তথ্য পায় নাঃ সুইচ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সালে কমন রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড (সিআরএস) গড়ে তোলে ১০০টি দেশ। যার আওতায় সদস্য দেশগুলো তার নাগরিকদের সব তথ্য সুইস ব্যাংক থেকে পায়। আর অটোমেটিক এক্সচেঞ্জ অব ইনফরমেশন (এইওআই) নামে ব্যবস্থা থেকে তথ্য পাওয়ার আরেকটি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয় ২০১৭ সাল থেকে। এই কাঠামোর আওতায় নিজ দেশে কর ফাঁকি দিয়ে সুইস ব্যাংকে অর্থ জমা রাখলে তার তথ্য দিতে বাধ্য থাকে সুইস ব্যাংকগুলো। এই কাঠামোতে ১২১ দেশ থাকলে বাংলাদেশ নেই। ভারত, পাকিস্তান ও এমনকি মালদ্বীপও ওই প্রক্রিয়ায় স্বাক্ষর করলেও বাংলাদেশ করেনি।

১৮.৩) এটা সই করলে বাংলাদেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতে সংস্কার করতে হবে ফলে ব্যাংক লুটপাট বন্ধহতে বাধ্য হবেঃ টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন শুধু সুইস ব্যাংক কেন বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনার জন্য আইনি উদ্যোগ তেমন নেই। তিনি ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘কমন রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড (সিআরএস) চুক্তিতে বাংলাদেশ সই করলে এই তথ্য পাওয়া সম্ভব। কিন্তু বাংলাদেশ তা করছে না। এটা সই করলে বাংলাদেশের ব্যাংক ও আর্থিক খাতে সংস্কার করতে হবে। এখানে যে ব্যাপক কর ফাঁকি দেয়া হয় তা বন্ধ হবে। এটা দেশের জন্য মঙ্গল।’  

১৮.৪) টাকা ফেরত আনা সরকারের সদিচ্ছার ব্যাপার মাত্রঃ  পাচারকৃত টাকা ফেরত আনার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে তা কতট ফল দেবে, এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক একজন কমিশনার ঢাকা টাইমসকে বলেন, ‘এই টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে- ওই রাষ্ট্রগুলোর (যে দেশগুলোতে অর্থ পাচার হয়েছে) সদিচ্ছার ব্যাপার। কারণ সুনির্দিষ্টভাবে টাকা ফেরতের সরাসরি কোনো আইন নেই।’ তিনি আরও বলেন, আদালতের রায়েরভিত্তিতে কোকোর টাকা আনা হয়েছিল। যাদের টাকা আছে (পাচার করা অর্থ বিদেশে আছে) তাদের বিষয়ে রায় নেওয়ারও একটি বিষয় আছে। যে আইনটি প্রস্তাব করা হচ্ছে সেটি শক্ত আইন নয় বলেও মন্তব্য করেন দুদকের এই সাবেক কমিশনার।

১৯) পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে দুদকে ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধঃ চলতি বছর সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক-এসএনবি প্রকাশিত সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন বলছে, সুইস ব্যাংকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশি নাগরিকদের ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইচ ফ্রা (সুইজারল্যান্ডের মুদ্রা) জমা রয়েছে। গতকালের বিনিময় হার (১ সুইস ফ্রা =১০০.২৪ টাকা) অনুযায়ী এর পরিমাণ ৮ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা।  ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ব্যাংকটিতে বাংলাদেশিদের ৩৩৭ কোটি টাকা জমা ছিল। সে হিসাবে গত ২৫ বছরে ওই ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা জমা রাখার পরিমাণ ২৫ গুণ বেড়েছে। এসব টাকা বৈধ উপায়ে ওই ব্যাংকে জমা রাখা হয়নি জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বাংলাদেশিরা এসব অর্থ পাচার করেছে। এগুলো নিয়ে দুদকের কোন মাথা ব্যথ্যা লক্ষ করা যায় নাই। তাদের মাথা ব্যর্থা দেখেছি সরকারের নির্দেশনা পরিপালন করা।

২০) প্রতি লিটার অপরিশোধিত জালানি তেলের দাম ৪৭.২২ টাকাঃ সৌদি আরবের দৌড়ঝাঁপে কাজ হচ্ছে না, তেলের দাম আবারও কমছে প্রথম আলো রোববার, ১১ জুন ২০২৩: বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, গতকাল শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ১৭ ডলার কমে দাঁড়ায় ৭৪ দশমিক ৭৯ ডলারে। সেই সঙ্গে ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ১২ ডলার কমে দাঁড়িয়েছে ৭০ দশমিক ১৭ ডলারে। এক ব্যারেল সমান 158.987 লিটার। (৭০.১৭ x ১০৭) = ৭৫০৮.১৯ টাকা / ১৫৯ = ৪৭.২২ টাকা। প্রতি লিটার অপরিশোধিত জালানি তেলের দাম ৪৭.২২ টাকা। এখন আপনারাই বলুন বাংলাদেশে বর্তমানে জ্বালানি তেল প্রতি লিটারের দাম কত?

২১) আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি কেজি চিনির দাম পড়ে ৭২.২২ টাকাঃ 06/06/23, গতকাল মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দেওয়া সুগার রিফাইনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চিঠিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে প্রতি টন অপরিশোধিত চিনির দাম ৬৭৫ মার্কিন ডলার। অথচ এক মাস আগেও তা ছিল ৫২০ ডলার। অর্থাত প্রতি কেজি চিনির দাম পড়ে ৭২.২২ টাকা।


২২) প্রতি কেজি সয়াবিন তেলের দাম পড়ে ১৩২.২৫ টাকা: (10/04/23, ডেইলি ষ্টার)ঃ চলতি বছরের আন্তর্জাতিক বাজারে জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে প্রতি টন সয়াবিন তেল ১ হাজার ২৩৬ ডলারে বিক্রি হয়েছে। (1,236 x ১০৭) = ১৩২২৫২.০০ টাকা প্রতি কেজির দাম পড়ে ১৩২.২৫ টাকা। অথচ প্রতি লিটারের সোয়াবিন তৈলের দাম ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

২৩) বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী আয় ২৪ দশমিক ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আসেঃ  এ সিদ্ধান্তের কারণে ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরে দাঁড়ায় ১৮.২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যা পূর্ববর্তী অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া, ২০২০-২১ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আহরণের পরিমাণ ছিল ২৪.৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ২০১৯-২০ অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৩৬ শতাংশ বেশি। দি ডেইলি ষ্টার শনিবার জানুয়ারি ১, ২০২২

২৪) বছরে ৪১.১১ বিলিয়ন ডলার পোষাক খাত থেকেই আয় হয়ঃ মোট রপ্তানি আয়ের ৮১ শতাংশ তৈরি পোশাক খাত থেকে এসেছে। অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে ২ হাজার ৩৯৮ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত বছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ের তুলনায় ৩০ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। একই সঙ্গে তা আলোচ্য সময়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৬ দশমিক ৭২ শতাংশ বেশি। অর্থাৎ বছরে ৪১.১১ বিলিয়ন ডলার পোষাক খাত থেকেই আয় হয়।

২৫) প্রতিবছর গড়ে ৭৫৩ কোটি ৩৭ লাখ ডলার পাচার হয়, (৭.৫৩) বিলিয়ন ১৫ বছরে ১১৩ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছেঃ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটি (জিএফআই) ২০২০ সালে বলেছিলো, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর গড়ে ৭৫৩ কোটি ৩৭ লাখ ডলার পাচার হয়। তারা বলেছিলো যে, ২০০৮ সালের পরে বাংলাদেশে পণ্যের মূল্য ঘোষণায় গরমিল দেখিয়ে অর্থ পাচারের পরিমাণ বেড়েছে। ১৮ জুন, ২০২২

২৬) বাংলাদেশের তিন চালিকাশক্তিঃ বাংলাদেশের সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে তিন চালিকাশক্তি। এগুলো হলো-কৃষি, গার্মেন্টস এবং রেমিট্যান্স (প্রবাসী আয়)। বাংলাদেশ ধ্বংসের তিন চালিকাশক্তি হচ্ছে গনতন্ত্রহীনতা, কু-শাষন, এবং মূদ্রা পাচার।

২৭) ব্যাংকের সংখ্যা ৬১টিঃ ৬টি রাষ্ট্রায়ত্ব বাণিজ্যিক ব্যাংক, ৪৩টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক, ৩টি বিশেষায়িত ব্যাংক ও ৯টি বিদেশি ব্যাংকসহ বাংলাদেশে মোট তালিকাভুক্ত ব্যাংকের সংখ্যা ৬১টি এবং অ-তালিকাভুক্ত ব্যাংকের সংখ্যা ৫টি।

২৮) সিপিডির সংলাপে বক্তারা বলেছেন ব্যাংকগুলো থেকে যত টাকা লুট হয়েছে, ব্রিটিশরাও এত লুটে নেয়নিঃ দেশের বিদ্যমান ব্যাংক ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। একটা গোষ্ঠী ধীরে ধীরে ব্যাংকগুলো গিলে খাচ্ছে। করোনাভাইরাস বা ইউরোপে যুদ্ধের কারণে ব্যাংক খাতে এ সংকট দেখা দিয়েছে, এমনটি নয়। এ খাতের দুর্বলতা দীর্ঘদিনের। মূলত ব্যাংকগুলোতে লুটপাট চলছে। ব্রিটিশরাও এত টাকা লুটপাট করেনি, যত টাকা বর্তমানে ব্যাংকগুলো থেকে লুট হয়েছে।

২৯) বাংলাদেশের ১১ ব্যাংক সামগ্রিকভাবে চরম মূলধন ঘাটতিতে রয়েছে। এর মধ্যে ২০ ব্যাংকের কাছে দায় মেটানোর ডলার নেই।

৩০) দেশে মাথাপিছু আয়  ২,২৩,২৮৯ টাকা, মাসে প্রায় ২০ টাকাঃ দেশে মাথাপিছু আয় বেড়ে ২ হাজার ২২৭ মার্কিন ডলার হয়েছে। ১০৭ টাকা হারে ২,২৩,২৮৯ টাকা মাসে প্রায় ২০ টাকা।

৩১) টাকার অভাবে বাজার করতে পারছে না, আর একটি অংশ দেশে টাকা রাখার জায়গা পাচ্ছে নাঃ জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদের বলেছেন, দেশের বেশির ভাগ মানুষ টাকার অভাবে বাজার করতে পারছে না, আর একটি অংশ দেশে টাকা রাখার জায়গা পাচ্ছে না। তারা হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে। ফলে সরকারি দলের লোকেরাই বেহেশতে আছেন, দেশের মানুষ দোযখে জ্বলছে। মানুষের অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের ব্যবস্থা নেই, মৌলিক অধিকার নেই মানুষের।

৩২) দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ হচ্ছে সেই দেশ, যে দেশে চিকিৎসায় রোগীদের পকেটের টাকা খরচ হয় সবচেয়ে বেশিঃ পকেটে অর্থকড়ি থাকলে একটা পর্যায় পর্যন্ত আপনি বাংলাদেশেও চিকিৎসা পেতে পারেন, তা সরকারি বা বেসরকারি যে হাসপাতালেই হোক না কেন। অর্থকড়ি নেই তো, গুরুতর অসুখ হলে বিনা চিকিৎসায় বা অর্ধ চিকিৎসায় মারা যাবেন আপনি। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ হচ্ছে সেই দেশ, যে দেশে চিকিৎসায় রোগীদের পকেটের টাকা খরচ হয় সবচেয়ে বেশি। বাংলাদেশে চিকিৎসাসেবায় সরকারের খরচ হয় ২৮ শতাংশ, আর বাকি ৭২ শতাংশ খরচই হয় রোগীদের পকেটের পয়সায়।

৩৩) তথ্যভিত্তিক এ জরিপে ঘুষ, চাদা-বাজী লেনদেন ১০ হাজার ৮৩০ দশমিক ১ কোটি টাকাঃ ২০২০-এর ডিসেম্বর থেকে শুরু করে ২০২১ এর নভেম্বর পর্যন্ত মেয়াদের তথ্যভিত্তিক এ জরিপে অন্তর্ভুক্ত খাতগুলোতে সেবা পর্যায়ে ঘুষ বা নিয়মবহির্ভূতভাবে লেনদেন হওয়া অর্থের প্রাক্কলিত মোট পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার ৮৩০ দশমিক ১ কোটি টাকা। যা ২০২০-২১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের ৫ দশমিক ৯ শতাংশ এবং জিডিপির শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত খাত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

৩৪) এখন আর বস্তায় নয় ঘুষ নিচ্ছে ডলারেঃ শুনানির এক পর্যায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘গণমাধ্যমে দেখা যায় ঘুষ লেনদেনে বস্তায় বস্তায় টাকা বিনিময় হয়।’ তখন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারক বলেন, এখন আর বস্তায় নয় ঘুষ নিচ্ছে ডলারে। বস্তাভর্তি টাকায় নয় এখন ঘুষ লেনদেন হয় ডলারের মাধ্যমে। এমন মন্তব্য করেছে হাইকোর্ট। এক মামলার শুনানিকালে এমন মন্তব্য করে বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর হাইকোর্ট বেঞ্চ।

মোঃ মানসুর আলম সিকদার
কলামিষ্ট, বীমা লেখক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *