নিজস্ব প্রতিবেদক: বিভিন্ন দৈনিক প্রত্রিকায় ১৮ জুলাই, ২০২৫ প্রকাশিত সংবাদে দেখাগেছে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ঢাকা সিটি কলেজ। তখন শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছিল, অধ্যক্ষ নিয়ামুল হক কর্তৃত্ববাদী মনোভাবে কলেজ চালাচ্ছেন এবং তার ঘনিষ্ঠ একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন প্রশাসনিক অনিয়মে যুক্ত। অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) কাজী নিয়ামুল হকের পদত্যাগের দাবিতে লাগাতার আন্দোলনের অংশ হিসেবে তখন উত্তাল ছিল ঢাকা সিটি কলেজ চত্তর। এ সময় তাদের স্ব-ঘোষিত অধ্যক্ষের স্বৈরতান্ত্রিক শাসনের বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ এবং প্রশাসনিক সিন্ডিকেট ভাঙার দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিয়েছিল সাধারন শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছিল, অধ্যক্ষ নিয়ামুল হক কর্তৃত্ববাদী মনোভাবে কলেজ চালাচ্ছেন এবং তার ঘনিষ্ঠ একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন প্রশাসনিক অনিয়মে যুক্ত। আন্দোলনকারীদের দাবি, আহত শিক্ষার্থীদের ঘটনায় তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা শ্রেণি কার্যক্রম, অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা ও ফি প্রদানসহ সব ধরনের একাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করে আন্দোলন চালিয়ে যাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী যে যে অভিযোগের কারণে উত্তাল ঢাকা সিটি কলেজ তা নিম্নরুপঃ
১. সাবেক অধ্যক্ষ বেদার উদ্দিন কে দিয়ে বেআইনি ও জোরপূর্বকভাবে সিটি কলেজের সাধারণ শিক্ষকদের বহিষ্কার করেছে।
২. প্রিন্সিপাল ও ভাইস প্রিন্সিপালের চেয়ার আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে নিজে নিজে দখল করেছেন!
৩. আইনে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের হাতে স্টাফ বা কর্মকর্তা নিয়োগের বিধান না থাকলেও মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বেশকিছু স্টাফ নিয়োগ দিয়েছেন।
৪. ঢাকা সিটি কলেজ সংস্কারের নামে কোটি টাকার উপর খরচ দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করছেন।
৫. শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভিতরে বে-আইনি ভাবে বিভিন্ন কোম্পানির বিজ্ঞাপন ও মেলা বসিয়ে অবৈধ পন্থায় অর্থ উপার্জন করছেন।
৬. ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে ইংলিশ কোচিং ও ট্যুরের কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অপচেষ্টা করেছিল।
৭. ছাত্র-ছাত্রীদের ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে জুনিয়র ও সিনিয়রদের মধ্যে একাধিক বার গন্ডগোল তৈরি করেছেন।
৮. সূত্র মতে: নিজ হাতে ভূয়া ভিডিও তৈরি করে শিক্ষক মোশাররফ হোসেন সাহেবের নিকট থেকে সাত লক্ষ টাকার নিয়েছে বলে ছাত্র-ছাত্রীদের নামে অভিযোগ করেছিল।
৯. সাধারন শিক্ষার্থীদের ভস্যমতে: তামিম নামে সাবেক এক ছাত্রের মাধ্যমে গুন্ডা বাহিনী ভাড়া করে কলেজের ছাত্র-ছাত্রীর সাথে গন্ডগোল সৃষ্টি করেছেন।
১০. সূত্র মতে: ভূয়া রেজাল্ট তৈরি করে ২৫ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের টেস্ট রেজাল্ট করেছেন।
১১. বিধিবহির্ভূত নিজেদের চেয়ার টিকিয়ে রাখতে প্রায় ৪৫ দিন বা উপরে কলেজ বন্ধ রেখে ছাত্র-ছাত্রীদের অপূরনীয় ক্ষতি করেছেন।
১২. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক গভর্নিং বডির সদস্যদের সম্মানী না নেয়ার প্রজ্ঞাপন হবার পরও বর্তমানে অপ্রয়োজনীয় মিটিং করে কলেজের তহবিলের অর্থ খরচ করেছেন, যা সম্পূর্ণ অবৈধ।
১৩. ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল থেকে পদত্যাগ করেও কলেজের গাড়ি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করছেন, যা আইনের পরিপন্থী।
১৪. দুষ্ট চক্রের চক্রান্তে মাধ্যমে গুন্ডাবাহীনি ”কলেজের নতুন চেয়ারম্যান সাব্বির মোস্তফা খান সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে কলেজের গেইট বন্ধ করে দিয়ে তাকে অপমান অপদস্ত করেছেন”।
১৫. ছাত্ররা নতুন চেয়ারম্যান সাহেবকে রিসিভ করতে গেলে কলেজ স্থাপনায় ভাংচুরকারী ও সন্ত্রাসী বলে টাকা খাইয়ে পত্রিকায় মিথ্যা রিপোর্ট প্রকাশ করিয়েছেন বলে অভিযোগ সাধারন শিক্ষার্থীদের।
১৬. নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষক কলেছেন ”ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল হতে পদত্যাগ করেও কোন ক্লাস ও পরীক্ষার ডিউটি না দিয়ে বেতন গ্রহণ এবং প্রশাসনিক কাজে অবৈধ হস্তক্ষেপ করেছেন”।
১৭. সূত্র মতে: প্রিন্সিপাল নিয়োগ পরীক্ষায় সাধারণ শিক্ষকের প্রার্থীতা বাতিল করে ডামি প্রার্থী নিয়ে ঈদের বন্ধে গোপনে পরীক্ষা আয়োজন করে শুধুমাত্র নিয়ামুলকে উর্ত্তীণ করা হয়।
১৮. অবৈধ প্রিন্সিপালকে বৈধতা দিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সম্মতি না দেয়ায় সংবাদ সম্মেলন করে ভিসি মহোদয় ও তার পিএসকে পঞ্চাশ লক্ষ টাকার দাবির ভিত্তিহীন মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগ করে। অথচ ভিসি মহোদয় ও তার পিএস এর সত্যতা সর্ব মহলে প্রশংসানীয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এজনছাত্রী বলেন, ”কলেজ প্রশাসনের বিরুদ্ধে শুধু আমাদের না, আগের ব্যাচের শিক্ষার্থীরাও অভিযোগ করেছেন। কিন্তু প্রতিবার প্রশাসন ধামা-চাপা দিয়ে দিয়েছে। এবার আর তা হতে দেওয়া হবে না। আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। আমরা প্রশাসনের দেওয়া কোনো নোটিশ মানছি না। কারণ, তারা শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করছে না। বরং গেট বন্ধ করে আমাদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে। আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনে থাকব। তাই যে কোন মুহুর্তে হয়তবা ঢকা সিটি কলেছে নিয়ামুলগংদের কারণে যে কোন অপ্রিতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে। তাই যথাযথ কর্তৃপক্ষকের নিকট আকুল আবেন আপনারা নিয়ামুলগংদের অপকর্ম থামান”।