”ব্যাংকাস্যুরেন্স সম্পর্কে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য”

মোঃ মানসুর আলম সিকদার, এম. বি. এ. এল এল. বি: দেশের লাইফ ও নন-লাইফ বীমা ব্যবসার প্রসারে ‘ব্যাংকাস্যুরেন্স’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে ব্যাংকাস্যুরেন্স চূড়ান্ত নীতিমালা প্রনয়ন করতেযাচ্ছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) । কর্তৃপক্ষের ওয়েবসাইটে খসড়া নীতিমালাটি প্রকাশ করা হয়েছে। চূড়ান্ত নীতিমালা অনুসারে, বাংলাদেশ ব্যাংক দ্বারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষাভাবে নিয়ন্ত্রিত যেকোন প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘ব্যাংকাস্যুরেন্স’ এজেন্ট হওয়ার যোগ্যতা রাখে। এক্ষেত্রে আবেদনকারী ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ) বা অন্য কোন দলিলের মাধ্যমে এজেন্ট হিসেবে লাইসেন্সপ্রাপ্তির পর বীমা ব্যবসা সংগ্রহ করা নিশ্চিত করবে।

ইতিমধ্যে ‘ব্যাংক অ্যাসুরেন্স গাইডলাইনস ফর ব্যাংক’ চূড়ান্ত করে অর্থমন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২৪ মে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এক অনুষ্ঠানে চূড়ান্ত নির্দেশিকায় সই করেন সব অংশীজনরা। শিগগিরই ‘ব্যাংক অ্যাসুরেন্স গাইডলাইনস ফর ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি’ চূড়ান্ত করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জয়নুল বারী। এই নির্দেশিকা চূড়ান্ত করতে সর্বশেষ গত ২ আগস্ট বীমা খাতের অংশীজনদের সাথে বৈঠক করে নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ ব্যাংক ‘ব্যাংক অ্যাসুরেন্সের’ যে নির্দেশিকা চূড়ান্ত করেছে সেখানে বলা হয়েছে, একটি ব্যাংক সর্বোচ্চ তিনটি লাইফ ও তিনটি নন-লাইফ বীমা কোম্পানির কর্পোরেট এজেন্ট হিসেবে ব্যাংক অ্যাসুরেন্স ব্যবসা করতে পারবে। নতুন প্রস্তাব মতে একটি বীমা কোম্পানি সর্বোচ্চ চারটি ব্যাংকের সাথে ব্যাংক অ্যাসুরেন্স করতে পারবে বলে ২ আগস্টের অংশীজন সভায় সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আইডিআরএ’র এই নির্দেশিকা অর্থমন্ত্রণালয় চূড়ান্ত করলে, চলতি বছরের শেষ দিকে দেশে ব্যাংক অ্যাসুরেন্স চালু হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

উন্নত বিশ্বে বীমা ছাড়া এক পা চলা যাবে না। আমাদের পাশের দেশেগুলোতেও এখন বীমাকে অনেক গুরুত্ব দেয়া হয়। উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যাবে তাদের অর্থনীতিতে বীমার অবদান ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত। কিন্তু আমাদের দেশে মাত্র দশমিক ৫৬ শতাংশ। ২০২১ সালে বীমাতে অবদান ৪ শতাংশ হবে বলে ধরা হলেও তা আমরা করেতে পারিনি।

ব্যাংকাস্যুরেন্স এর খসড়া নীতিমালা অনুযায়ী কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিম্নে আলোচনা করা হলঃ

১) ব্যাংকাস্যুরেন্স এর পরিভাষার সংজ্ঞাসমূহঃ এর অর্থ বাংলাদেশের যথাযথ আইনে নিবন্ধনকৃত ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমূহ তাদের নিজস্ব বিক্রয় ও বিতরণ মাধ্যম যেমন: ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শাখা, লিজিং কোম্পানি, টেলি-মার্কেটিং কেন্দ্রসমূহ, এজেন্ট ব্যাংকিং, নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহার করে তাদের হিসাবধারী / ভোক্তা / সাধারণ জনগণের নিকট বীমা পরিকল্পসমূহ উপস্থাপন, বিতরণ, বিক্রয় ও প্রচারনাকে বোঝাবে।

(ক) বীমাকারীর কর্পোরেট এজেন্ট হিসেবে কাজ করবেঃ বীমাকারী ও ব্যাংক / আর্থিক প্রতিষ্ঠান এর মধ্যকার ব্যাংকাস্যুরেন্স চুক্তির অধীন ব্যাংক / আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ বীমাকারীর কর্পোরেট এজেন্ট হিসেবে কাজ করবে।

(খ) ব্যাংকাস্যুরেন্স এজেন্সি চুক্তিঃ এটি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বীমাকারীর মধ্যকার একটি আইনি চুক্তি যেখানে ব্যাংক অথবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা আইন ২০১০ ও অন্যান্য বিধি বিধান সমুন্নত রেখে বীমাকারীর কর্পোরেট এজেন্ট হিসেবে কাজ করবে।

(গ) ব্যাংকঃ কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর কর্ম তালিকানুযায়ী সন্নিবেশিত ব্যাংকসমূহকে তফসিলি ব্যাংক বলা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক আদেশ ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ (১) অনুযায়ী, তফসিলি ব্যাংক হচ্ছে সে সমস্ত ব্যাংক যারা বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্বারা পরিচালিত হয়।

(ঘ) ব্যাংকাস্যুরেন্স কর্মকর্তাঃ যিনি হচ্ছেন ব্যাংকের এমন একজন কর্মকর্তা ‍যিনি একটি দায়িত্বশীল পদে আসীন এবং ‍যিনি অর্পিত ক্ষমতাবলে ব্যাংকের পক্ষে বীমাকারীর সাথে বাংকাস্যুরেন্স চুক্তি অনুযায়ী কর্ম পরিচালনার জন্য সরাসরি দায়িত্বপ্রাপ্ত এবং কর্তৃপক্ষের বিধি বিধানসমূহ পতিপালন করিবেন।

২) ব্যাংকাস্যুরেন্স এজেন্ট হওয়ার যোগ্যতাঃ আবেদনকারী ব্যাংক / আর্থিক প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করিবেন যে, Memorandum of Understanding (MOU) বা অন্য কোন দলিলের মাধ্যমে এজেন্ট হিসেবে লইসেন্সপ্রাপ্তির পর বীমা ব্যবসা সংগ্রহ করার যোগ্যতা অর্জন করবে এবং তখনই তিনি একজন পরিপূর্ন ব্যাংকাস্যুরেন্স এজেন্ট হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করল।

৩) প্রধান ব্যাংকান্স্যুরেন্স নির্বাহীর যোগ্যতাঃ প্রধান ব্যাংকাস্যুরেন্স নির্বাহীর ক্ষেত্রে কোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় বা ইনস্টিটিউট থেকে স্নাতক বা সমমানের পরীক্ষায় পাসের যোগ্যতা থাকতে হবে। প্রত্যেক প্রধান ব্যাংকাস্যুরেন্স নির্বাহী এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তির প্রত্যেককে বীমা আইন ২০১০ এর ধারা ১২৫(২) এবং ১২৪(৪) এর অধীন নির্দিষ্ট কোন অযোগ্যতা থাকতে পারবে না। 

৪) সুনির্দিষ্ট ব্যক্তির যোগ্যতাঃ (ক) ব্যাংকাস্যুরেন্স এজেন্টের সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি নির্ধারিত ফর্মে অবশ্যই ব্যাংকাস্যুরেন্স এজন্টের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। (খ) ব্যাংকাস্যুরেন্স এজেন্টের সুনির্দিষ্ট ব্যক্তি ব্যতিত অন্য কোন ব্যক্তি ব্যাংকাস্যুরেন্স এজন্টের পক্ষে বীমা ব্যবসা সংগ্রহ করতে পারবে না। (গ) সরকার কর্তৃক কোন স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় হতে স্নাতক বা সমমানের সনদপ্রাপ্ত হতে হবে।


৫) বীমা কোম্পানিকে এজেন্টের সাথে চুক্তির আগে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে এবং ব্যাংকাস্যুরেন্স এজেন্টকে অনুমোদন নিতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংকেরঃ কোন ব্যাংকাস্যুরেন্স এজেন্ট নির্দিষ্ট প্রকারের বীমা কোম্পানির তিনের অধিক লাইফ বা নন-লাইফ বীমা কোম্পানির সাথে যুক্ত হতে পারবে না। বীমা কোম্পানিকে এজেন্টের সাথে চুক্তির আগে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে এবং ব্যাংকাস্যুরেন্স এজেন্টকে অনুমোদন নিতে হবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিকট থেকে। নতুন প্রস্তাব মতে একটি বীমা কোম্পানি সর্বোচ্চ চারটি ব্যাংকের সাথে ব্যাংক অ্যাসুরেন্স করতে পারবে বলে ২ আগস্টের অংশীজন সভায় সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

৬) লাইসেন্স ইস্যুঃ আবেদনকারী একটি ব্যাংকাস্যুরেন্স প্রাতিষ্ঠানিক এজেন্ট নিয়োগকারী হিসেবে কাজ করার লাইসেন্স পেতে চাইলে নির্ধারিত ফরমের সাথে ২০০০ টাকাসহ কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করতে হবে। আবেদনকারীকে বিবেচনা করার সময় কর্তৃপক্ষ আবেদনকারী বা তার প্রবর্তকদের বা শেয়ারহোল্ডারদের দ্বারা বীমা পরিকল্প বিতরণের ওপর প্রভাব ফেলার সমস্ত বিষয় বিবেচনায় রাখবে।

– ব্যাংকাস্যুরেন্সের জন্য প্রদত্ত লাইসেন্সটি ৩ বছরের জন্য প্রদান করা হবে। একই লাইসেন্স পরবর্তীতে ৩ বছর করে নবায়ন করা যাবে। প্রত্যেক ব্যাংকাস্যুরেন্স এজেন্ট ১০০০ টাকা প্রদান সাপেক্ষে নির্ধারিত ফরমে নবায়নের আবেদন করবে এবং লাইসেন্সের মেয়াদ পূর্তির ৩০ দিন পূর্বে কর্তৃপক্ষ বরাবরে আবেদন করবে।


– নবায়নের আবেদনের সাথে প্রধান ব্যাংকাস্যুরেন্স এজেন্ট নির্বাহীসহ শাখায় কর্মরত এজেন্ট বা এজেন্টগণের বাধ্যতামূলকভাবে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমির ২ সপ্তাহ ট্রেনিংয়ের সার্টিফিকেটের কপি জমা দিতে হবে। কোন লাইসেন্স স্থগিত করা হলে কর্তৃপক্ষের নিকট ১০০০ টাকা ফিসহ আবেদনের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ সন্তুষ্ট হলে পুনরায় লাইসেন্স প্রদান করতে পারবে।

৭) ব্যাংকাস্যুরেন্স এজেন্টের বীমা কোম্পানীর সাথে যুক্ত হওয়ার সর্ব্বোচ্চ সংখ্যাঃ কোন ব্যাংকাস্যুরেন্স এজেন্ট নির্দিষ্ট প্রকারের বীমা কোম্পানীর ৩ (তিন) এর অধিক লাইফ বা নন-লাইফ বীমা কোম্পানীর সাথে যুক্ত হতে পারবে না। বীমা কোম্পানিকে এজেন্টের সাথে চুক্তির পূর্বে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে এবং ব্যাংকান্স্যুরেন্স এজন্টেকে বাংলাদেশ বাংকের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। তবে নতুন আইনে ৪ (চার) এর অধিক লাইফ বা নন-লাইফ বীমা কোম্পানীর সাথে যুক্ত হতে পারবে না।

– বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমোদন গ্রহণপূর্বক বীমা কোম্পানী কোন নির্দিষ্ট ব্যাংকাস্যুরেন্স এজেন্ট এর অতিরিক্ত একাধিক এজেন্ট এর সাথে যুক্ত হতে পারবে। তবে বীমা কোম্পানীকে এজেন্টের সাথে চুক্তির পূর্বে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে।

৮) ব্যাংকের সম্মানীঃ কর্পোরেট বীমা এজেন্ট হিসেবে বীমা ব্যবসা সংগ্রহ ও পরিচালনার জন্য ব্যাংকের সম্মানীর মাত্রা নির্ধারিত হবে তার কর্ম দক্ষতার নির্ণায়কের ওপর যাতে বীমাকারী ও ব্যাংক অথবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান একমত হবে। সম্মানীর কাঠামো ও হার ব্যাংকান্স্যুরেন্স চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। ব্যাংকের সম্মানীর বিষয়ে নীতিমালায় বলা হয়েছে, করপোরেট বীমা এজেন্ট হিসেবে বীমা ব্যবসা সংগ্রহ ও পরিচালনার জন্য ব্যাংকের সম্মানীর মাত্রা নির্ধারিত হবে তার কর্মদক্ষতার নির্ণায়কের ওপর যাতে বীমাকারী ও ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান একমত হবে। সম্মানীর কাঠামো ও হার ব্যাংকাস্যুরেন্স চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। 

যেমন:
– যে কোনো সম্মানী বীমাকারীর অর্জিত প্রিমিয়াম থেকে হতে হবে।

– সম্মানীর কাঠামো ও হার ব্যাংকাস্যুরেন্স চুক্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।

– ব্যাংক অথবা আর্থিক প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট বীমাকৃত ব্যক্তির নিকট কোনো সেবা খরচ, প্রত্রিয়াকরণ খরচ, প্রশাসনিক খরচ নিতে পারবে না।

– বিপণন প্রচারণা বাবদ ব্যাংক/আর্থিক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সৃষ্ট তৃতীয় পক্ষের খরচে বীমাকারী পূর্ব নির্ধারিত হারে অংশগ্রহণ করতে পরেবে।

১১) দাবি সংক্রান্ত অভিযোগঃ বীমাগ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যাংক ও বীমাকারী ব্যাংকাস্যুরেন্স পরিচালনায় বা বিক্রয় কার্যক্রমে উত্থাপিত সকল অভিযোগ আমলে নেবে বলে ব্যাংকাস্যুরেন্স চুক্তিতে উল্লেখ করবে এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রন কর্তৃপক্ষ ক্ষয়ক্ষতি, বিনষ্ট বা দায়, যার জন্য বীমাকারী ব্যাংকাস্যুরেন্সর কোনো বীমাপত্র বা বীমা চুক্তি সাপেক্ষে দায়ী, এ সংক্রান্ত দাবি ও অভিযোগে আইনগতভাবে নিষ্পত্তি করবে।

১২) ব্যাংকান্স্যুরেন্স ব্যবসার নিয়মিত প্রতিবেদনঃ

(ক) বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ যাতে অত্র নীতিমালা বাস্তবায়ন সুষ্ঠভাবে তদারকি করতে পারে সে জন্য প্রত্যেক বীমাকারী বছর শেষে উক্ত বছরের বার্ষিক ব্যাংকাস্যুরেন্স ব্যবসায়ের প্রতিবেদন প্রস্তুত করে কর্তৃপক্ষ করাবর প্রেরণ করবে, নিম্নোক্ত বিবৃতি একজন অনুমোদিত নিরীক্ষক কর্তৃক যথাযথভাবে নিরীক্ষিত হতে হবে।

ক) বছর শেষে সম্পদ ও দায়ের বিবৃতি;
খ) প্রিমিয়াম প্রতিবেদন (একত্রিত ব্যাংকাস্যুরেন্স ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে);
গ) প্রিমিয়াম প্রতিবেদন (প্রত্যেক ব্যাংকের ক্ষেত্রে);
ঘ) ব্যয় প্রতিবেদন (একত্রিত ব্যাংকাস্যুরেন্স ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে);
ঙ) ব্যয় প্রতিবেদন (প্রত্যেক ব্যাংকের ক্ষেত্রে);
চ) দাবি প্রতিবেদন (একত্রিত ব্যাংকাস্যুরেন্স ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে);
ছ) দাবি প্রতিবেদন (প্রত্যেক ব্যাংকের ক্ষেত্রে);
জ) কমিশন ও সমর্পণ মূল্য প্রতিবেদন (একত্রিত ব্যাংকাস্যুরেন্স ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে);
ঝ) কমিশন ও সমর্পণ মূল্য প্রতিবেদন (প্রত্যেক ব্যাংকের ক্ষেত্রে);
ঞ) বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্দেশিত এ ধরনের অন্যান্য প্রতিবেদন।

(খ) কমিশনের প্রতিবেদন দাখিলঃ প্রত্যেক ব্যাংকাস্যুরেন্স এজেন্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নির্ধারিত ফরম্যাটের ভিত্তিতে চীফ ব্যাংকাস্যুরেন্স এক্সিকিউটিভ, ম্যানেজিং ডিরেক্টর/মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এবং চীফ ফাইন্যান্সিয়াল অফিসার কর্তৃক প্রত্যায়িত এবং বিধিবদ্ধ অডিটর দ্বারা অডিট করে আর্থিক বছর শেষে ছয় মাসের মধ্যে কমিশনের প্রতিবেদন দাখিল করবে।

গ) সমস্ত দলিল সংরক্ষণ করে রাখাঃ সমস্ত দলিল, প্রতিবেদন, চুক্তি, নোট, ব্যাখ্যা ইত্যাদি অন্তত ১০ (দশ) বছর সংরক্ষণ রাখতে হবে।

১৩) ব্যাংকের পরিচয় / লোগো ব্যবহারঃ বীমাকারীর পরিকল্প কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত ব্যাংকাস্যুরেন্স এজেন্ট দ্বারা বিক্রয় ও বিতরণ করা হবে। কর্তৃপক্ষ এই নীতিমালা জারির পরে ব্যাংকাস্যুরেন্স এজেন্টের মাধ্যমে পরিকল্প বিতরণের সময় ব্যাংকাস্যুরেন্স এজন্টের নাম ও লোগো বীমাকারী ব্যবহার করিতে পারবে।

১৪) KYC & Enhanced Due Diligence পরিপালনঃ ব্যাংকাস্যুরেন্স এজেন্ট বীমাগ্রাহকের বাংলাদেশ ফাইন্যানসিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট (BFIU) কর্তৃক প্রদত্ত নিয়ম অনুযায়ী বীমা গ্রাহকের KYC (Know Your Customer)এবং Enhanced Due Diligence রিপোর্ট বীমাকারীকে প্রদান করবে।

১৫) প্রবিধান সংশোধনের ক্ষমতাঃ বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয়তার তাগিদে এই নীতিমলার সংশোধন, পরিবর্তন অথবা পরিবর্ধন করতে পারবে। কর্তৃপক্ষ নীতিমালার কোন কোন বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদান বা নির্দেশনা বা গাইডলাইন জারি করতে পারবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *