কেয়ামতের আলামত অবস্থাদৃর্টে দৃশ্যমান হচ্ছে

কেয়ামতের আলামত সংক্রান্ত হাদিসগুলোতে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি কেয়ামতের অন্যতম বড় নিদর্শন।

হাদিসের পরিভাষায় এই সময়কালকে ‘হারজ’ (Harj) বা ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও হত্যাকাণ্ডের যুগ বলা হয়েছে।

নিচে এই বিষয়টি সম্পর্কিত হাদিস এবং এর ব্যাখ্যা তুলে ধরা হলো:

১. হাদিসের উদ্ধৃতি

রাসূলুল্লাহ (সা.) এই ভয়াবহ সময়ের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন:

“সেই সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! মানুষের ওপর এমন এক সময় আসবে, যখন হত্যাকারী জানবে না যে কী কারণে সে হত্যা করছে এবং নিহত ব্যক্তিও জানবে না যে কী কারণে তাকে হত্যা করা হচ্ছে।”

(সহীহ মুসলিম: ২৯০৮)

সাহাবায়ে কেরাম যখন জিজ্ঞেস করলেন, “এমনটা কেন হবে?” তখন নবীজি (সা.) উত্তর দিলেন, “হারজ (মারামারি ও হত্যা) এর কারণে।”


২. মানুষের বিবেক বা বুদ্ধি লোপ পাওয়া

আপনি যে ‘বিবেক নষ্ট’ হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন, সে সম্পর্কেও সুনির্দিষ্ট হাদিস রয়েছে। এই সময়ে মানুষের মানসিক ও নৈতিক অবস্থা কেমন হবে, তা নিচে আলোচনা করা হলো:

  • জ্ঞানীদের বিদায়: সমাজের প্রকৃত জ্ঞানী ও বিবেকবান মানুষ কমে যাবে বা মারা যাবে।
  • বিবেকহীনদের রাজত্ব: তাদের স্থানে এমন সব মানুষ আসবে যাদের কোনো সঠিক বিচার-বুদ্ধি থাকবে না।
  • তুচ্ছ কারণে হত্যা: মানুষের সহনশীলতা শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। সামান্য কথা কাটাকাটি বা স্বার্থের দ্বন্দ্বে মানুষ একে অপরকে হত্যা করবে, কিন্তু পরে ভাবলে তারা হত্যার কোনো যৌক্তিক কারণ খুঁজে পাবে না।

রাসূল (সা.) বলেন:

“কেয়ামতের আগে ইলম (দ্বীনি জ্ঞান) তুলে নেওয়া হবে এবং অজ্ঞতা বিস্তার লাভ করবে। আর ‘হারজ’ বেড়ে যাবে। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হারজ কী? তিনি বললেন, হত্যা।” — (সহীহ বুখারী)

৩. বর্তমান প্রেক্ষাপট

বর্তমান বিশ্বের দিকে তাকালে এই ভবিষ্যৎবাণীর প্রতিফলন দেখা যায়:

  • যুদ্ধ-বিগ্রহ: বিভিন্ন দেশে যুদ্ধ বা সংঘাত হচ্ছে যেখানে সাধারণ মানুষ মারা যাচ্ছে, অথচ তারা জানে না তাদের অপরাধ কী।
  • গণপিটুনি ও গুপ্তহত্যা: সামাজিক অস্থিরতার কারণে হুটহাট মানুষকে মেরে ফেলা হচ্ছে।
  • সন্ত্রাসবাদ: এমন সব হামলা হচ্ছে যেখানে হত্যাকারী এবং নিহত—কেউ কাউকে চেনে না।

এই হাদিসগুলো মূলত আমাদের সতর্ক করার জন্য বলা হয়েছে, যাতে মানুষ ফেতনার সময় নিজেকে সংবরণ করে এবং বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *