”দুর্ঘটনায় মারা গেলে উত্তরাধিকারীরা ৫লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পাবে”

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় কেউ মারা গেলে বা আহত হলে সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণ প্রদানের সুনির্দিষ্ট বিধান রয়েছে। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ এবং এর অধীনে প্রণীত বিধিমালা ২০২২ অনুযায়ী এই আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

নিচে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ এবং প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো:

. ক্ষতিপূরণের পরিমাণ

দুর্ঘটনার ধরন অনুযায়ী আর্থিক সহায়তার পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন হয়:

  • মৃত্যুর ক্ষেত্রে: কোনো ব্যক্তি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেলে তার পরিবার বা উত্তরাধিকারীরা লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন।
  • গুরুতর অঙ্গহানি: দুর্ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ কোনো অঙ্গ হারানো বা পঙ্গুত্বের শিকার হলে ভুক্তভোগী লক্ষ টাকা পাবেন।
  • চিকিৎসায় সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে: যদি আঘাতের কারণে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা না থাকে, তবে লক্ষ টাকা দেওয়া হয়।
  • সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে: চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার সুযোগ থাকলে ভুক্তভোগী লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পান।

. কোন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়?

এই ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সরকার একটি বিশেষ তহবিল গঠন করেছে, যা আর্থিক সহায়তা তহবিল নামে পরিচিত। এটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে একটি ট্রাস্টি বোর্ড

  • প্রতিষ্ঠান: বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বা বিআরটিএ (BRTA)। মূলত বিআরটিএ-র চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে গঠিত ট্রাস্টি বোর্ডের মাধ্যমে এই সহায়তা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
  • কারা আবেদন করতে পারেন: মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে তার আইনগত উত্তরাধিকারীরা এবং আহত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ভুক্তভোগী নিজে বা তার প্রতিনিধি আবেদন করতে পারেন।

. আবেদন করার নিয়ম সময়সীমা

  • সময়সীমা: দুর্ঘটনা ঘটার ৩০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত ফর্মে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর আবেদন করতে হয়। (তবে বিশেষ ক্ষেত্রে বোর্ড এই সময়সীমা শিথিল করার ক্ষমতা রাখে)।
  • তদন্ত প্রক্রিয়া: আবেদন প্রাপ্তির পর ১০ দিনের মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ক্ষতির প্রতিবেদন জমা দেয়।
  • টাকা প্রাপ্তি: প্রতিবেদন সন্তোষজনক হলে বোর্ড পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ক্ষতিপূরণের চেক প্রদান বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তরের ব্যবস্থা করে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:

আবেদনের সাথে সাধারণত নিচের নথিগুলো প্রয়োজন হয়:

  • নির্ধারিত আবেদন ফরম (বিআরটিএ অফিসে বা ওয়েবসাইটে পাওয়া যেতে পারে)।
  • দুর্ঘটনার বিষয়ে পুলিশের এফআইআর (FIR) বা জিডির কপি।
  • মৃত ব্যক্তির ক্ষেত্রে ডেথ সার্টিফিকেট এবং পোস্টমর্টেম রিপোর্ট।
  • উত্তরাধিকার সনদ (চেয়ারম্যান/কাউন্সিলর কর্তৃক সত্যায়িত)।
  • জাতীয় পরিচয়পত্র এবং আবেদনকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য।

বিশেষ দ্রষ্টব্য: এটি একটি সরকারি অনুদান বা সহায়তা। তবে কোনো ভুক্তভোগী পরিবার যদি মনে করেন এই পরিমাণ পর্যাপ্ত নয়, তবে তারা দেওয়ানি আদালতেও ক্ষতিপূরণের মামলা করার আইনগত অধিকার রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *