সাহানা আক্তার: ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ‘অপারেশনএপিকফিউরি’ (Operation Epic Fury) এর অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে কী পরিমাণ স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে, তার একটি বিস্তারিত পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হলো।
উল্লেখ্য যে, সংঘাতটি এখনো চলমান থাকায় ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা নিয়মিত পরিবর্তিত হচ্ছে। আজ ৬ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ:
সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান (মার্চ – এপ্রিল ২০২৬)
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম (যেমন: দ্য গার্ডিয়ান, আল-জাজিরা) এবং বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা (ISW, CSIS) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী:
- বেসামরিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা: ইরান সরকারের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, প্রায় ৮১,০০০টি বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
- ৬১,০০০টি বসতবাড়ি।
- ১৯,০০০টি বাণিজ্যিক স্থাপনা।
- ২৭৫টি চিকিৎসা কেন্দ্র (হাসপাতাল ও ক্লিনিক)।
- ৫০০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়)।
- সামরিক অবকাঠামো: মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (CENTCOM) এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (IDF) দাবি অনুযায়ী:
- প্রতিরক্ষা শিল্প: ইরানের সামরিক শিল্পের প্রায় ৭০% ধ্বংস করা হয়েছে।
- ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সাইট: ১৯০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক মিসাইল লঞ্চার এবং ৪টি প্রধান ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র (খোজির, শাহরুদ, পারচিন ও হাকিমিয়া) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।
- নৌবাহিনী: ইরানের নৌবাহিনীর প্রায় ৯০% থেকে ৯৫% জাহাজ ও ভেসেল ধ্বংস করা হয়েছে (প্রায় ১৫০টি বড় ভেসেল)।
- আন্ডারগ্রাউন্ড টানেল: ইরানের ১০৭টি আন্ডারগ্রাউন্ড মিসাইল টানেলের মধ্যে প্রায় ৭৭% (৮২টি টানেল মুখ) ধ্বংস করা হয়েছে।
- শিল্প ও জ্বালানি: * ইরানের ইস্পাত উৎপাদনের ৭০% সক্ষমতা ধ্বংস করা হয়েছে বলে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু নিশ্চিত করেছেন।
- পেট্রোকেমিক্যাল এবং জ্বালানি অবকাঠামোগুলো (যেমন: খর্গ দ্বীপ) হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল।
উল্লেখযোগ্য ঘটনা ও লক্ষ্যবস্তু
- নেতৃত্বের অবসান: ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম ১২ ঘণ্টার হামলায় সুপ্রিম লিডার আলী খামেনি এবং প্রায় ২৫০ জন শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতা নিহত হন।
- প্রথম ১২ ঘণ্টা: হামলার শুরুতেই ৯০০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নিখুঁত বিমান হামলা চালানো হয়।
তথ্যসূত্রসমূহ (Sources):
১. Britannica (২০২৬): “2026 Iran War | Explained” – হামলার প্রথম পর্যায়ের ৯০০টি টানেল ও নেতৃত্বের ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত। ২. The Guardian (৫ এপ্রিল, ২০২৬): “Trump warns Iran to reopen strait of Hormuz” – ৮১,০০০ বেসামরিক স্থাপনা এবং ৭০% ইস্পাত উৎপাদন কেন্দ্র ধ্বংসের তথ্য। ৩. Institute for the Study of War (ISW) (৩ এপ্রিল, ২০২৬): “Iran Update, Special Report” – ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র ও ৭৭% টানেল ধ্বংসের সামরিক বিশ্লেষণ। ৪. House of Commons Library (UK Parliament): “US/Israel-Iran conflict 2026” – যুদ্ধের রাজনৈতিক ও অবকাঠামোগত প্রভাবের রিপোর্ট। ৫. Wikipedia (৬ এপ্রিল, ২০২৬): “2026 Iran War” – নিয়মিত আপডেট হওয়া সামরিক ও বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান।